ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খালে পড়ে গেছে। এতে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেলফি পরিবহনের বাসটি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। পরে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে ঘিওর আঞ্চলিক সড়কের দুটি সেতুর মাঝখানের খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মো. দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক যাত্রী নিহত হন। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার ঢাকার সাভারের একটি রেফ্রিজারেটর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য তিনি টেপড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সেলফি পরিবহনের ওই বাসে উঠেছিলেন।
এ ঘটনায় অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জুয়েল ইসলাম বলেন, “বাসটির গতি অনেক বেশি ছিল। হঠাৎ করে বাসটি তার পাশ দিয়ে বিমানের মতো উড়ে গিয়ে খালে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় সিএনজি চালকদের সহায়তায় আমরা খালে নেমে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করি।”
স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা বেগম বলেন, “সেলফি পরিবহন এখন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ির ভেতরে প্রশস্ত জায়গা, আরামদায়ক সিট ও দ্রুতগতির কারণে মানুষ এই পরিবহনে ওঠেন। কিন্তু একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে এখন অনেকেই ভয় পান।”
খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশ, বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও শিবালয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।