ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) নিয়ে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২০ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
সংসদের অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরে তিনি কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সংসদ এলাকা ত্যাগ করেন। তবে সরকারি সূত্র থেকে এ ঘটনাকে ঘিরে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
সকাল থেকেই সংসদ চত্বর ঘিরে ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে বিক্ষোভ কনট প্লেস, জনপথ, রেল ভবন ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। সংসদ এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজীব চক, জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও আরও কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
দিল্লি পুলিশ জানায়, সংসদ অভিমুখে এ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সংসদ এলাকার চারপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি ছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সিজেপির দাবি, তারা আগেই প্রশাসনকে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে চেয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও সীমিত করা হয়েছে।
দিনের শেষ দিকে সিজেপির প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে আন্দোলনের সব দাবি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনও দেওয়া হয়নি।