দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও গাজা উপত্যকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল ঘিরে দেখা দিয়েছে কিছুটা আনন্দের আবহ। রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন। এই ম্যাচে গাজার অনেক মানুষ স্পেনের জয় কামনা করছেন।

স্পেনের প্রতি এই সমর্থনের মূল কারণ ফুটবল নয়, বরং মানবিক ও রাজনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। এই সিদ্ধান্ত গাজার মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া স্পেনের কয়েকজন ফুটবলারের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল লা লিগা জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করায় গাজার অনেক সমর্থকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সমর্থক আল-বোজম ইয়ামালের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, তারা ফিলিস্তিন থেকে তাকে ভালোবাসেন এবং চান তিনি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকাও তুলে ধরুন।
যুদ্ধ ও জ্বালানির সংকটের কারণে গাজায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা এখন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কিংবা জেনারেটর চালানোর পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেকেই পুরো ম্যাচ দেখতে পারেন না।
তবুও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ম্যানেজার আদনান আল-আফিফি একটি প্রতীকী বিশ্বকাপ ম্যাচের আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় তরুণরা ফিলিস্তিন ও স্পেনের জার্সি পরে খেলেন। রেফারি ও প্রতীকী ভিএআর ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানও গাজার অনেক মানুষের মধ্যে স্পেনের প্রতি সমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্য বা খেলোয়াড়দের প্রতি তাদের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই।
আদনান আল-আফিফি বলেন, আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তি। স্পেনকে সমর্থন করার অর্থ আর্জেন্টিনার বিরোধিতা নয়। তার মতে, লিওনেল মেসির উপস্থিতির কারণে ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাও যথেষ্ট উজ্জ্বল।