ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে (১৫) রিকশায় তুলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে লতিফ নামের এক স্থানীয় রিকশাচালকের বিরুদ্ধে।

১৭ জুলাই শুক্রবার মাহমুদপুরের গ্রামে নদী থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থী মারুফের লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন এলাকায় চাঞ্চল্য ও মানুষের ভিড় ছিল, ঠিক সেই সুযোগেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর একটি শাখা খালে গোসল করতে নেমে শেখ মারুফ (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ হয়।

পরদিন শনিবার সকালে ডুবুরি দল নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। নিজের এলাকার ছেলের লাশ উদ্ধার দেখার জন্য ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীও সেখানে যান। একপর্যায়ে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি অভিযুক্ত রিকশাচালক লতিফের গাড়িতে ওঠেন।অভিযোগে প্রকাশ, লতিফ তরুণীকে তার বাড়িতে না নিয়ে কৌশলে সামনের একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।
সেখানে তরুণীকে একা পেয়ে সে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই সময় তরুণীটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত রিকশাচালক লতিফ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে ঘটনার পর থেকেই একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, স্থানীয় কিছু মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি আপস-মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে অভিযুক্ত লতিফ পার পেয়ে যায়। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর ওপর এমন পাশবিক চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে লতিফকে গ্রেপ্তার এবং এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।