মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকার নবাবগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে থানা পুলিশ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মোটরসাইকেল মহড়ার মাধ্যমে এই প্রচারণা শুরু করে।

থানা পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ টিম মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও প্রচারণা চালায়। তারা কৈলাইলের মাইলাইল, বক্সনগরের কোমরগঞ্জ, কলাকোপার আমিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রচারণার সময় বিভিন্ন জনবহুল স্থানে থেমে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মাদকের কুফল ও ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

কোমরগঞ্জে আয়োজিত পথসভায় নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ বলেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষক, ইমাম, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, কেবল পুলিশের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে মাদকের এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
মোটরসাইকেল মহড়ার সময় হাতে মাইক নিয়ে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হবে।
এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বাজার ও সড়কের মোড়ে সাধারণ মানুষও অংশ নেন। প্রচারণার পাশাপাশি পুলিশ সড়কে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজাসহ একজনকে আটক করে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। মাদক প্রতিরোধে পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই লড়াই সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।