ভালোবাসার টানে পরিবারের অমতে ঘর বেঁধেছিলেন ১৮ বছরের তরুণী আলেয়া আক্তার। কিন্তু সেই ভালোবাসাই যে তার জীবনের কাল হবে, তা কে জানতো! মাত্র দুই বছরের মাথায় কোল আলো করে আসা দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।
ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে শনিবার দুপুরে আলেয়ার রহস্যজনক মৃত্যু হলে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আলেয়া একই গ্রামের শেখ হালিমের মেয়ে। নিহতের স্বজনদের স্পষ্ট অভিযোগ এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তারা।
স্বজনরা জানান, আলেয়ার স্বামী মাসুম বেপারী চরম মাদকাসক্ত। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নেশা করে আলেয়ার ওপর চালাতো অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একাধিকবার বাবার বাড়ি চলে গেলেও, সর্বশেষ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মাত্র তিন দিন আগেই স্বামীর ঘরে ফিরেছিলেন আলেয়া। আর সেটাই হলো তার শেষ ফেরা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন স্বামী মাসুম।
এদিকে নিহতের শাশুড়ি মাকসুদা বেগম একে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও, কীভাবে বা কেন আত্মহত্যা করেছে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে দোহার থানার ওসি মোঃ আবু বকর সিদ্দিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সারা দেননি।
