কোমল কণ্ঠে ভেসে এলো মহাকবি কায়কোবাদের অমর সৃষ্টি ‘আযান’। ছোট ছোট শিশুদের আবৃত্তিতে যেন প্রাণ ফিরে পেল বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী কবিতা। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী আয়োজন।

মহাকবি কায়কোবাদের ৭৫তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে নবাবগঞ্জ পল্লবি কচি-কাঁচার মেলার উদ্যোগে ঘোসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিদ্যালয়ভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে অংশ নেয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা আবেগ ও মেধার সমন্বয়ে আবৃত্তি করে মহাকবি কায়কোবাদের বিখ্যাত কবিতা ‘আযান’। মাত্র ৮ জন প্রতিযোগী অংশ নিলেও প্রত্যেকের কণ্ঠে ফুটে ওঠে কবিতার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস। শিশুদের সাবলীল আবৃত্তি উপস্থিত শিক্ষক, আয়োজক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে দিয়া রানী দাস, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে তাহমিনা আক্তার এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে তাজবির শিকদার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘোসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল সামাদ মোল্লা, শিক্ষক মোহাম্মদ হায়দার আলী দেওয়ান, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, আকলিমা আক্তার ও সম্রিতা আলম।
নবাবগঞ্জ পল্লবি কচি-কাঁচার মেলার পক্ষ থেকে আয়োজনটি সফলভাবে সমন্বয় ও পরিচালনা করেন সংগঠক শুভাশিস গোস্বামী ও আবির হোসেন অনিক। শিশুদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে সবসময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রীতম মণ্ডল।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল সামাদ মোল্লা বলেন, “কায়কোবাদ বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর ‘আযান’ কবিতা আমাদের শৈশব থেকেই আধ্যাত্মিকতা ও সুরের এক অনন্য অনুভূতি দিয়ে আসছে। আজকের যান্ত্রিক সময়ে শিশুদের মাঝে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই চমৎকার আবৃত্তি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নবাবগঞ্জ পল্লবি কচি-কাঁচার মেলার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
মেলার সংগঠক শুভাশিস গোস্বামী বলেন, “শিশুদের সুকোমল প্রতিভার বিকাশ ঘটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে। মহাকবি কায়কোবাদ আমাদের নবাবগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলা সাহিত্যের গৌরব। তাঁর ৭৫তম প্রয়াণ দিবসে ‘আযান’ কবিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি বলেন, শিশুদের সুন্দর ও প্রাণবন্ত আবৃত্তি দেখে তারা অভিভূত। ভবিষ্যতেও শিশুদের কল্যাণে ও সংস্কৃতি চর্চায় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষকবৃন্দ ও কচি-কাঁচার মেলার নেতৃবৃন্দ মহাকবি কায়কোবাদের সাহিত্যকর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য, কবিতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ছোট ছোট কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আযান’ যেন মনে করিয়ে দিল—সাহিত্যের আলো জ্বালিয়ে দিতে পারলে নতুন প্রজন্মের হৃদয়েও জেগে উঠবে সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা।