বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেনি লিওনেল মেসির দল। আক্রমণে ছিল না তেমন ধার, মাঝমাঠেও ছিল না নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত শুধু ট্রফিই হারাতে হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের, বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে দুর্বল আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যান নিয়েও মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। বল দখল থেকে শুরু করে আক্রমণের গতি—সব দিকেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। নিজেদের অর্ধে আর্জেন্টিনাকে অনেকটা সময় ব্যস্ত রাখে স্প্যানিশরা। ফলে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে স্পেন বলের দখল ধরে রেখেছিল ৬৬ শতাংশ সময়, যেখানে আর্জেন্টিনার দখলে ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। শুধু বল নিয়ন্ত্রণ নয়, আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দলের পার্থক্য ছিল স্পষ্ট।

পুরো ম্যাচে স্পেন আর্জেন্টিনার গোলমুখে ২০টি শট নেয়। বিপরীতে আর্জেন্টিনা স্পেনের পোস্ট লক্ষ্য করে নিতে পারে মাত্র দুটি শট। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচে এত কম শট নেয়নি আর্জেন্টিনা। ফলে এটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলটির সবচেয়ে দুর্বল আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স হিসেবে নতুন রেকর্ড হয়ে থাকল।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনা সবসময়ই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দলটি প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে এসেছে। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে সেই পরিচিত আর্জেন্টিনাকে দেখা যায়নি। স্প্যানিশদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারালো প্রেসিংয়ের সামনে বারবার থেমে গেছে তাদের আক্রমণ।
শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো হতাশা ও এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মধ্য দিয়ে। ট্রফি হারানোর কষ্টের সঙ্গে যোগ হলো ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্প্রভ আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যান—যা এই ফাইনালকে আর্জেন্টিনার জন্য স্মরণীয় নয়, বরং ভুলে যেতে চাওয়ার মতো এক অধ্যায়ে পরিণত করল।